মাদ্রাসা সুপারের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের বিক্ষোভ

মাদ্রাসা সুপারের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থী ও নাগরিকদের বিক্ষোভ

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
জামালগঞ্জে শুকদেবপুর আলিয়া মাদ্রাসার সুপারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিক।

সোমবার সকালে মাদ্রাসা সুপারের কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা। তবে এই খবর পেয়ে সুপার মাহমুদুল হাসান আগেই ছটকে পড়েন। এ ঘটনায় আন্দোলন চলাকালে কোনো হতাহতের খরব পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসী জানায়, দীর্ঘদিন যাবত শুকদেবপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপারের দায়িত্ব পালন করছেন মো. মাহমুদুল হাসান। গত আওয়ামী সরকারের আমলে দলীয় প্রভাবে ভর্তি ও নিয়োগ বানিজ্যসহ অর্থনৈতিক নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সুপার মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে।

গত বছরের ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর থেকেই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও সম্প্রতি মাদ্রাসার এক মেয়ে শিক্ষার্থীকে অনৈতিক কু-প্রস্তাব দেওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেলে তীব্র নিন্দা ও পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেন এলাকার ছাত্রজনতা। সোমবার সকাল থেকেই সুপারের পদত্যাগের দাবিতে মাদ্রাসার ফটকের ভেতরে ঢুকতে থাকে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। প্রায় দুপুর পর্যন্ত এই বিক্ষোভ চলে। পরে স্থানীয় কিছু মুরুব্বিদের আশ্বাসে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখেন।

শুকদেবপুর গ্রামের সজল আহমেদ নামে সাবেক শিক্ষার্থী জানান, বিগত প্রায় ৪ বছর পূর্বে তাকে অসামাজিক কার্যকলাপে প্রস্তাব দেন সুপার মাহমুদুল। এতে সজল রাজি হয়নি। পরে সুপার মাহমুদুল ভিকটিম সজলকে বলেন, এই কথা কাউকে জানালে তোকে চোরের মামলায় ঢুকিয়ে দিবে বলে ভয়ভীতি দেখান।

এদিকে ফেসবুকে Sr Sahin নামে এই প্রতিষ্ঠানের আরেক সাবেক শিক্ষার্থী তার ফেসবুকে লিখেন, আমাদের মাদ্রাসার বোডিং আছে। আমি ২ বছর যাবত বোডিংয়ে ছিলাম। তখন এই সুপারের খেদমত করতাম। দাখিল পরীক্ষার ২ মাস আগে সুপার আমাকে তাঁর রুমে ডাকেন। আমি যাওয়ার পর তিনি আমাকে পা টিপে দেওয়ার জন্য বলেন। আমি হুজুরের কথামত পা টিপে দিচ্ছি আর তেল মালিশ করছি। হঠাৎ আমাকে তিনি বলেন একটু উপরে টিপ দেওয়ার জন্য। আমি অবাক হলাম। তখন বলে আরে বাবা সমস্যা হবেনা। এটা স্বাভাবিক একটা বিষয়। পরে আমাকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করেন। আমি শক্তি দিয়ে তখন ছুটে আসি। আমাকে তখন তিনি বলেন বিষয়টি কাউকে জানালে তোকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিবো। পরে আমি বিষয়টি আর কাউকে জানাইনি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এলাকার মুরুব্বি এমদাদুল হক জানান, গত কয়েকদিন আগে একটি মেয়ে শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছে সুপার মাহমুদুল হাসান। এই বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় সমালোচনার ঝড় উঠে। এর পরপরই স্থানীয় কোনো লোকজনকে না জানিয়ে সুপার মাহমুদুল হাসান একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। এর পরেই ক্ষোভে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লোকজনসহ স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দ সোমবার তার পদত্যাগের আন্দোলনে নামেন।

এব্যাপারে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন সুহেল জানান, বিগত কয়েকদিন আগে সুপার মো. মাহমুদুল হাসান এক শিক্ষার্থীকে কু-প্রস্তাব দিয়েছে বলে ফেসবুকে জানতে পারি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ তার বিরুদ্ধে এই আন্দোলন। পরে কয়েক গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি বসে তদন্ত করে দেখার আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেন বিক্ষোভকারীরা।

ঘটনার বিষয় জানতে মাদ্রাসার সুপার মো. মাহমুদুল হাসানের ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এব্যাপারে জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর জানান, শুকদেবপুর থেকে সকালে কয়েকজন লোক আমাকে ফোন করে জানালে আমি তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে বলেছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয় হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff