স্টাফ রিপোর্টার
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেছেন, হাসিনা এখন আওয়ামী লীগের নেত্রী নয় তিনি তার পরিবারের নেত্রী। দলের নেতাকর্মীদের কথা না ভেবে তার পরিবারের সবাইকে নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তাদের পরিবারের কেউ এখন পর্যন্ত গ্রেফতার হয়নি। গনসমাবেশে আওয়ামী লীগের উদ্দ্যেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা জাতীয় কাছে ক্ষমা চেয়ে তওবা করেন, আপা আপা বললে আর কোন কাজ হবে না। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) বিকালে সিলেট রেজিস্ট্রারি মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশব্যাপী নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ ও সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক যাত্রাপথে উত্তরণের জন্য নির্বাচনকালীন রোডম্যাপ ঘোষণা এবং রাষ্ট্রে বিরাজমান ফ্যাসিবাদী শাসনের নানা চক্রান্ত ও অপচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবিতে এই গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালিন এই সরকার সবার সমর্থনে তৈরি হয়েছে। এত সমর্থন থাকার পরেও দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে ব্যার্থ সরকার। দাম কমাতে না পারলে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। বাণিজ্য উপদেষ্টা চাইলেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল আরো বলেন, বর্তমান অন্তর্বতীকালীন সরকারকে আওয়ামীলীগ ও তার দোসররা ব্যাতিত সবাই সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু আকিজ গ্রুপের মালিককে বাণিজ্য উপদেষ্টা করা হয়েছে, এই আকিজ গ্রুপের মালিকরা আওয়ামীলীগের সময়ে এমপি ছিল, তারা সুবিধা নিয়েছে। এখন তেল, গ্যাস, চাল, ডাল ভোজ্য তেল সহ নিত্য পণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। দেশের তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণকারী গ্রুপ গুলিকে একত্রিত করলে তেলের দাম কমে যাবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টার আন্তরিকতা থাকলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। দীর্ঘ ১৮ বছর হাজার মাইল দূরে থেকেও আমাদের নেতা তারেক রহমান দলকে পরিচালনা করছেন, মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। মানুষের জীবন ঘনিষ্ঠ সমস্যার সময় বিএনপি সব সময় মানুষের পাশে থেকে।
বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের শ্রুতধারার সাথে ছাত্রজনতার আন্দোলন নিলে মিশে যাওয়ার কারনেই ফ্যাসিবাদের পতন হশেছে। এই দেশের পরবর্তী নেতৃত্ব দিবে আজকের তরুণরা। বিএনপির গাছে ঝাঁকি দিয়ে ফল পেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। এদেশে কোন ফ্যাসিবাদ মাথা নাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না।
তিনি বলেন, কিছু দল বার বার কোল বদল করে। কিছুদিন বিএনপির কোলে আবার কিছুদিন আওয়ামী লীগের কোলে থাকে। দয়া করে একটা জায়গায় স্থির হন। রাজনীতি নিয়ে খেলা ধুলা বন্ধ করতে হবে।
এর আগে সমাবেশকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি, জেলা ও মহানগর ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবকদল, কৃষকদল, মহিলাদলসহ বিএনপির অঙ্গসগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিল সহকারে সমাবেশে উপস্হিত হতে থাকেন। জনসমাগমে রেজিস্ট্রারি মাঠ কানায় কানায় পুর্ণ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন পর সবাই একত্রিত হওয়ায় এক মিলন মেলায় পরিনত হয় মাঠ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তাহসিনা রুশদির লুনা বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদির লুনা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা নির্যাতনের শিকার হয়ে সরকারের পতন ঘটিয়েছি। এখন মানুষের মৌলিক চাহিদা পুরন হচ্ছেনা।
অতিরিক্ত ভ্যাট আরোপের কারনে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে। নিত্যপণ্য মানুষের নাগালের ভিতরে রাখতে হবে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঠিকমতো কাজ করছে না। আমাদের নেতাকর্মীদের নামেও বিভিন্ন স্থানে মামলা দেয়া হয়েছে। আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসছে। প্রশাসনের সর্বক্ষেত্রে অস্থিরতা বিরাজ করছে। আমরা ইলিয়াস আলী সহ গুম হওয়া নেতাকর্মীদের ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু আজও তা পূরণ হয়নি। তাই অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আমারা দেশ পরিচালনায় জনগণের মালিকানা চাই। দেশ যারা পরিচালনা করবেন আমরা সাধারণ জনগনই মনোনীত করে দিতে চাই।
মোটা চালের কেজি গত কয়েকদিনে কেজিতে ৩/৪টাকা বেড়েছে। দিনমজুরা সকাল বেলা কাজের জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে। সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা স্বৈরাচারের দোসররা বিচার। কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। তাই আমরা দ্রুত সম্ভব নির্বাচনী তফসিল ঘোষনার দাবি জানাই।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীদের জনগণের অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতে হবে। এই সরকারের উপর মূল দায়িত্ব জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। তাই অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষনা করুন।
জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিকে গউছ বলেন, দ্রব্যমূল্য নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে। তাই বাজার নিয়ন্ত্রণ করে নিত্যপণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসুন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুন। আমরা জনগণের পক্ষে মাঠে ছিলাম, এখনো আছি ভবিষ্যতেও থাকব। স্থানীয় নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের পরে হবে। কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে জনগণ ঘরে বসে থাকবে না।
জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বলেন, প্রয়োজনীয় যৌক্তিক সংষ্কার শেষে নির্বাচন দিন। কোন ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না। আমরা প্রথমিক বিজয় অর্জন করেছি, তাই আমাদের লড়াই চলতেই থাকবে।
জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে বিপ্লব করেছিলাম অবিলম্বে সেই উদ্দেশ্য বাস্তাবায়ন করুন। বাজার সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। স্বৈরাচারের দোসরদের আইনের আওতায় এনে অবিলম্বে নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিপ্লবের পর আমাদের এই জন্মভূমি নিয়ে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে। দেশকে ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কোন বিকল্প নেই। যেকোন মোকাবেলায় অতিতের মতো আগামীদিনেও বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী মাঠে থাকবে ইনশাআল্লাহ।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অথিতির মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন সহ ক্ষুদ্র ও ঋণ বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, হাদিয়া চৌধুরী মুন্নী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ।
সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট জেলা মহিলা দলের সভাপতি তাহসিন শারমিন তামান্না, সিলেট জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাকিল মোর্শেদ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সুদিপ জ্যোতি এষ ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি আহসান, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন দিনার, জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সুরমান আলী, মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলম জীবন প্রমূখ।
Leave a Reply