স্টাফ রিপোর্ট
সীমান্ত জনপদ ও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে এখন বইছে উৎসবের হাওয়া, তবে সেই আনন্দ ছাপিয়ে আলোচনায় এখন দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই। দীর্ঘদিনের দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী, ‘উন্নয়নের বরপুত্র’ খ্যাত আরিফুল হক চৌধুরী এবং স্থানীয় মানুষের আস্থার প্রতীক ‘ভূমিপুত্র’ মো. জয়নাল আবেদীনের মধ্যে এক শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের দুইবারের সফল মেয়র এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪ আসনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। যদিও শুরুতে তিনি সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে দলীয় সিদ্ধান্তে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হন। স্থানীয় বিএনপির কোন্দল মিটিয়ে তিনি গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জে বিশাল জনসমাবেশ করে নিজের সক্ষমতার জানান দিয়েছেন।
অপরদিকে, জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় যখন মানুষ দিশেহারা ছিল, তখন তিনি ত্রাতা হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, দুর্যোগের সময় আরিফুল হক চৌধুরীকে এই জনপদে দেখা যায়নি। স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে জয়নাল আবেদীন সবসময় সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার মধ্যে থাকায় এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগ সঙ্গে পাওয়ায় তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন। ১১ দলীয় জোট ও সমমনা ইসলামি দলগুলোর সমর্থন তার অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।
সিলেট-৪ (সংসদীয় আসন ২৩২) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১২ হাজার ৯৩৩ জন। ভোটারদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, লড়াই হবে মূলত বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি ও আরিফুল হকের ব্যক্তিক ইমেজ বনাম জয়নাল আবেদীনের স্থানীয় জনপ্রিয়তা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে।
মূল দুই প্রার্থীর পাশাপাশি ভোটের মাঠে রয়েছেন জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ডালিম (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ (হাতপাখা) এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীসহ আরও কয়েকজন। তবে মূল আলোচনা এবং নির্বাচনী উত্তাপ আবর্তিত হচ্ছে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লাকে কেন্দ্র করেই।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিলেটে অনুভূত মৃদু ভূমিকম্পের আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবারও নির্বাচনী প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। বৃহস্পতিবারের ভোটযুদ্ধকে সামনে রেখে প্রার্থীরা এখন শেষ মুহূর্তের ঘাম ঝরানো প্রচারণায় ব্যস্ত। সিলেটের এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটিতে শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদে পৌঁছাবেন, তা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে গোটা জেলা।
Leave a Reply