সিলেট জনসভায় তারেক: একাত্তরের ইতিহাস ভুলে যায়নি বাংলার মানুষ

সিলেট জনসভায় তারেক: একাত্তরের ইতিহাস ভুলে যায়নি বাংলার মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনি যাত্রা শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যেখানে জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি দলটির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

জনসভায় শ্রোতা হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা একজনকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, “আপনি কাবা শরিফে গেছেন, কাবা শরিফের মালিক কে?’ ওই ব্যক্তি উত্ত দেন, ‘আল্লাহ’।

বিএনপি চেয়ারম্যান জানতে চান, “আমরা মুসলমান সবাই, এই দিন-দুনিয়ার আমরা যে এই পৃথিবী দেখি, এই পৃথিবীর মালিক কে?’। উত্তর আসে, ‘আল্লাহ’।

তারেক রহমান আবার প্রশ্ন করেন, “এই সূর্য নক্ষত্র যা দেখি তার মালিক কে?” উত্তর আসে, ‘আল্লাহ’। বিএনপি চেয়ারম্যান প্রশ্ন করেন, “বেহেস্তের মালিক কে?” জবাবে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আল্লাহ’। তারেক এবার জানতে চান, ‘দোজখের মালিক কে?’ উত্তর আসে, ‘আল্লাহ’।

এসময় উপস্থিত জনতাও সমস্বরে ‘আল্লাহ, আল্লাহ’ উত্তর দিচ্ছিলেন।

এরপর তারেক রহমান বলেন, “আপনারা সকলেই সাক্ষী দিলেন, দোজখের মালিক আল্লাহ; বেহেস্তের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই যেটার মালিক আল্লাহ, সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে? রাখে না। তাহলে নির্বাচনের আগেই একটি দল ‘এই দেব, ওই দেব বলছে’; টিকেট দেব বলছে না?

“যেটার মালিক মানুষ না, সেটার কথা যদি সে বলে, শেরকি করা হচ্ছে, হচ্ছে না? যার মালিক আল্লাহ, যার অধিকার শুধু আল্লাহর, একমাত্র সবকিছুর অধিকার- উপরে আল্লাহর অধিকার।

“কাজেই আগেই তো আপনাদেরকে ঠকাচ্ছে, নির্বাচনের পরে তাহলে কেমন ঠকাবে আপনাদেরকে- বোঝেন এবার।”

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “শুধু ঠকাচ্ছেই না মানুষকে, যারা মুসলমান তাদেরকে শেরকি করাচ্ছে তারা; নাউজুবিল্লাহ। প্রিয় ভাই-বোনেরা, কেউ কেউ বলে অমুককে দেখেছি, তমুককে দেখেছি- এবার একে দেখেন।

“প্রিয় ভাই-বোনেরা, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ, যে যুদ্ধে লক্ষ মানুষের প্রাণের বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি। সেই মাতৃভূমিকে স্বাধীন করার সময় অনেকের ভূমিকা আমরা দেখেছি। যাদের ভূমিকার কারণে এই দেশের লক্ষ লক্ষ ভাইয়েরা শহীদ হয়েছে। এই দেশের লক্ষ লক্ষ মা বোনেরা- তাদের সম্মানহানি হয়েছে; কাজেই তাদেরকে তো বাংলাদেশের মানুষ ইতোমধ্যেই দেখেই নিয়েছে।”

তারেক বলেন, “এই কুফরির বিরুদ্ধে, এই হটকারিতার বিরুদ্ধে, এই মিথ্যার বিরুদ্ধে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমাদেরকে ঐ যে টেক ব্যাক বাংলাদেশে থাকতে হবে।

“আমরা দেশকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করেছি, এখন মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। শুধু ভোট, শুধু কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠিত করলে হবে না; মানুষকে সাবলম্বী করে নিজের পায়ে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেকটি মানুষ বাংলাদেশের মানুষ যাতে ঠিকভাবে ভালোভাবে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকতে পারে। প্রত্যেকটি মানুষ যাতে নিরাপদে রাস্তায় চলতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে। সেটিই হচ্ছে টেক ব্যাক বাংলাদেশ।”

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff