কনস্টেবল বলেন আটক, এসআই বলেন জিজ্ঞাসাবাদ: জাফলং পুলিশের বক্তব্যে গরমিল কেন?

কনস্টেবল বলেন আটক, এসআই বলেন জিজ্ঞাসাবাদ: জাফলং পুলিশের বক্তব্যে গরমিল কেন?

স্টাফ রিপোর্ট
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ে নদী থেকে বালি উত্তোলনকালে আটক এক যুবককে মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জাফলং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তানজিল আহমদের নির্দেশে প্রায় ৫ ঘণ্টা আটকে রাখার পর ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই যুবককে মুক্তি দেওয়া হয়।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে জাফলং নদী এলাকা থেকে স্বপন আহমদ নামের ওই যুবককে আটক করেন ফাঁড়ির কনস্টেবল হামিদ মিয়া। স্বপন উপজেলার তামাবিল মুজিবনগর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বীনা বেগমের ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে জাফলং নদীতে বালি উত্তোলনের সময় কনস্টেবল হামিদ মিয়া স্বপন আহমদকে আটক করেন। আটকের পরপরই তাকে জাফলং পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তাকে ফাঁড়িতে আটকে রাখা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, স্বপনকে আটকের পর শুরু হয় গোপন সমঝোতা। সন্ধ্যার দিকে ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তানজিল আহমদ সিলেট থেকে ফাঁড়িতে পৌঁছান। এরপর রাতের দিকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে সমঝোতা চূড়ান্ত হলে স্বপনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তাদের বক্তব্যে অসংলগ্নতা পাওয়া যায়।
স্বপনকে আটকের বিষয়টি স্বীকার করে কনস্টেবল হামিদ মিয়া বলেন, নদী থেকে বালি তোলার সময় তাকে আটক করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, জাফলং ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তানজিল আহমদ টাকা লেনদেনের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কাউকে আটক করা হয়নি। সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে ফাঁড়িতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগটি মিথ্যা।

তবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফাঁড়িতে আনার আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এসআই তানজিল কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। প্রতিবেদক প্রশ্ন রাখেন, কাউকে আটক না দেখিয়ে বা কোনো জিডি ছাড়া কীভাবে নাগরিককে ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি চুপ থাকেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, জাফলং এলাকায় পুলিশি হয়রানি ও বালি শ্রমিকদের জিম্মি করে টাকা আদায় নতুন কিছু নয়। তবে একজন ইউপি সদস্যের ছেলেকে এভাবে দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়ের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff