সিলেটের আলোচিত ওসি আহাদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি

সিলেটের আলোচিত ওসি আহাদকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি

স্টাফ রিপোর্টার

সিলেটের পুলিশ প্রশাসনে আলোচিত ও বিতর্কিত পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. আব্দুল আহাদকে অবশেষে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়েছে। সিলেটে তাঁর পুনঃপদায়নের গুঞ্জন ও এর জেরে সৃষ্ট তীব্র জনরোষের মধ্যেই পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই বদলির আদেশ জারি করা হলো।

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, ওসি আব্দুল আহাদকে আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় ৮ ডিসেম্বর থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (Stand Released) বলে গণ্য হবেন।

সম্প্রতি সিলেটে ওসি আহাদের পুনরায় পদায়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে ৩ ডিসেম্বর স্থানীয় দৈনিক সবুজ সিলেটে ‘ওসি আহাদের পদায়নে উত্তাল গোয়াইনঘাট, রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি স্থানীয়দের’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতেই এই বদলি করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওসি আব্দুল আহাদ তাঁর কর্মজীবনে প্রশংসা ও বিতর্কের এক মিশ্র চরিত্র। ২০১৯ সালে গোয়াইনঘাট থানার দায়িত্বে থাকাকালে তিনি ‘শ্রেষ্ঠ ওসি’ হিসেবে সম্মাননা পান। তবে তাঁর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ সেই সাফল্যকে ম্লান করে দিয়েছে।

ওসি আহাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ওঠে ২০১৯ সালে ছাত্রদল নেতা আন্নু মালিক লিটনকে কেন্দ্র করে। লিটনের পরিবার ও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, তৎকালীন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের নির্দেশে ওসি আহাদ লিটনকে ৩ দিন গুম করে রাখেন এবং জাফলং চা-বাগান এলাকায় ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার প্রস্তুতি নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ১ কেজি হেরোইনসহ (যা প্রকৃতপক্ষে ময়দা ছিল বলে দাবি পরিবারের) লিটনকে আটক দেখানো হয়। রিমান্ডে অমানুষিক নির্যাতন করে জবানবন্দি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

২০১৮ ও ২০২১ সালে ওসি আহাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ ওঠে। ২০১৮ সালে হুন্ডির মাধ্যমে ৪৫০ কোটি টাকা ভারতে পাচার এবং সাড়ে ৪ কোটি টাকা ঘুষ আদায়ের মামলার আসামি ছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২১ সালে জাফলংয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা ইনছান আলী বাদী হয়ে ওসি আহাদসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ পাথর উত্তোলনে সহযোগিতা ও কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা করেন। স্থানীয়দের মতে, তাঁর সময়ে সীমান্তে চোরাচালান ও বালু-পাথর খেকোদের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছিল।

এই বদলির মাধ্যমে সিলেটে ওসি আহাদের ফেরার পথ আপাতত বন্ধ হলো, যা স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff