সম্মানিত পাঠক ও সুধী সমাজ, আমি জাহিদ হাসান, একজন মুক্তচিন্তার লেখক, মানবাধিকার কর্মী ব্লগার এবং সমাজকর্মী হিসেবে দীর্ঘকাল ধরে মুক্তবুদ্ধি ও সমাজ সংস্কারের পক্ষে কাজ করে আসছি। অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, আমার আদর্শিক অবস্থান ও লেখালেখির কারণে একটি নির্দিষ্ট কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে আমার বিরুদ্ধে নানাবিধ ষড়যন্ত্র, সভা-সমাবেশ এবং অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। আমি এই হীন কার্যকলাপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমার আদর্শিক অবস্থান
আমি বিশ্বাস করি জ্ঞান ও চিন্তার স্বাধীনতা। ইতিহাসের মহান মনীষী গৌতম বুদ্ধ, কপিল, ডারউইন, কার্ল মার্কস এবং দেশীয় চিন্তার বাতিঘর ড. আহমদ শরীফ ও হুমায়ুন আজাদ যে যুক্তিবাদী ঐতিহ্যের সূচনা করেছেন, আমি নিজেকে সেই মুক্তচিন্তার উত্তরসূরি মনে করি। সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং প্রথাবদ্ধ গোঁড়ামির বিরুদ্ধে কলম ধরাকেই আমি লেখক হিসেবে আমার নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি।
নির্যাতন ও সাম্প্রতিক হামলা
আমার প্রকাশিত ২টি বই বর্তমানে পাঠক মহলে সমাদৃত হলেও, এই সত্যনিষ্ঠ লেখালেখির অপরাধে আমাকে ও আমার পরিবারকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদপত্রের কলামে সত্য উচ্চারণের ফলে আমাকে বারবার অত্যাচার, হামলা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হতে হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯শে অক্টোবর, একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এই হামলায় আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমার মনোবল বিন্দুমাত্র দমে যায়নি।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রতিবন্ধকতা
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, একটি বিশেষ মহলের হুমকির মুখে কোনো কোনো প্রকাশনী বা প্রকাশক আমার লেখা প্রকাশ করতে কুণ্ঠাবোধ করছেন। আমাকে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি, একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে সংবিধান আমাকে কথা বলার এবং মুক্তচিন্তার পূর্ণ অধিকার দিয়েছে।
আমার অঙ্গীকার, আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি যে— কোনো প্রকার হামলা, মামলা, জেল-জুলুম বা মৃত্যুভয় আমাকে আমার আদর্শিক পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। অন্ধবিশ্বাস ও সামাজিক পঙ্কিলতার বিরুদ্ধে আমার এই লড়াই আমৃত্যু অব্যাহত থাকবে।
জয় হোক সত্যের, জয় হোক মুক্তচিন্তার।
জাহিদ হাসান
মুক্তচিন্তার লেখক, মানবাধিকার কর্মী, ব্লগার ও সমাজকর্মী।
Leave a Reply