নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় পরকীয়ার জেরে শাশুড়িকে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুত্রবধূসহ ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লামনীরপাড় গ্রামে। নিহত ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী (৫৩) ওই গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর স্ত্রী। তার ছেলে রফিকুল ইসলাম চৌধুরী দুবাই প্রবাসী হওয়ায় বাড়িতে পুত্রবধূ তামান্না আক্তারের সঙ্গে তিনি বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে নিজ বসতঘর থেকে ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরীর হাত-পা বাঁধা ও মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতের পুত্রবধূ তামান্না আক্তার (২২)কে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেন।
পুলিশ জানায়, তামান্না আক্তারের সঙ্গে সুনামগঞ্জের এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার আগের রাতে ওই যুবকসহ আরও ২/৩ জন তার বাড়িতে আসে। এসময় তারা ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। প্রথমে তামান্নার কাছে থাকা প্রায় ৬ ভরি স্বর্ণ নেওয়া হয়। পরে আলমারির তালা ভেঙে শাশুড়ির আরও প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
একপর্যায়ে ফেরদৌসী ইসলাম চৌধুরী ঘুম থেকে জেগে উঠে চিৎকার করলে পুত্রবধূ ও তার সহযোগীরা মিলে তার হাত-পা বেঁধে এবং মুখে টেপ লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে তামান্না আক্তার, তার কথিত প্রেমিকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে নবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া জানান, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। পুত্রবধূকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Leave a Reply