স্টাফ রিপোর্ট
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় পোল্ট্রি ফার্মে কিশোর সুমন আহমদ (১৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত আশফাক আহমদ (১৮) ও তার ভাই মুস্তাকিম আলীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রধান আসামি আশফাক আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর ৩য় খণ্ড এলাকার মাওলানা আবদুল করিমের ছেলে আশফাক আহমদ এবং তার বড় ভাই পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মুস্তাকিম আলী। এ ঘটনায় নিহতের পিতা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে গোয়াইনঘাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— তাদের ভাই মজম্মীল আলী ও তৈয়রব আলীর ছেলে রায়হান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে একটি পোল্ট্রি ফার্মে সুমনের গলাকাটা মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের মুখ বাঁধা ছিল এবং লাশের পাশেই একটি গর্ত বা কবর খোঁড়া অবস্থায় পাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে মোস্তাকিম আলীকে আটক করে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) প্রধান অভিযুক্ত আশফাককে আটক করে। পরে সে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে আশফাক দাবি করে, সে একাই সুমনকে মুখ বেঁধে জবাই করে হত্যা করেছে।
সুমনের চাচা পাখি মিয়ার দাবি, সুমনকে একা জবাই করা অসম্ভব। সুমনের মুখ বাঁধা ছিল এবং তাকে হত্যার পর গুম করার জন্য ঘটনাস্থলে আগে থেকেই একটি কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। এসব আলামত প্রমাণ করে এটি একটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এতে একাধিক ব্যক্তি সরাসরি জড়িত।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সুমন হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ও তার ভাইকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আশফাক আদালতে জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
Leave a Reply