সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জে ভুয়া প্রবাসী সেজে কলেজছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণ ও সেই ঘটনার ভিডিও ধারণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রবিবার (১ মার্চ) সুনামগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শামসুর রহমান।
দণ্ডিত ব্যক্তি হলেন জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের তেরাপুর গ্রামের গৌছ আলীর ছেলে মহিবুর রহমান। রায়ের সময় তিনি পলাতক ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, জরিমানার এক লাখ টাকা নির্যাতনের শিকার নারীকে প্রদান করা হবে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সুনামগঞ্জের ছাতক পৌর শহরের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে মহিবুর রহমানের পরিচয় হয়। কথাবার্তার এক পর্যায়ে তিনি নিজেকে ফ্রান্স প্রবাসী বলে পরিচয় দেন এবং সেখানে তার অনেক সম্পদ রয়েছে বলে দাবি করেন। নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
এক পর্যায়ে মহিবুর রহমান ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন। পরে তিনি দেশে এসেছেন বলে জানিয়ে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করেন।
২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর মহিবুর রহমান তার এক বন্ধুর মাধ্যমে ওই কলেজছাত্রীকে ছাতক পৌর শহরের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও ও ছবি ধারণ করা হয়।
পরে ওই ছাত্রী বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, মহিবুর রহমান প্রতারণা করেছেন এবং তিনি কখনো ফ্রান্সে ছিলেন না। এরপর মহিবুর আবারও তাকে হোটেলে যাওয়ার জন্য চাপ দিলে মেয়েটি সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তি ধারণ করা ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী পর্নোগ্রাফি আইনে ছাতক থানায় মহিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
Leave a Reply