কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি:
জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার স্বীকৃতি পাওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছেন আমিরুল ইসলাম। পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার এবং ১৬টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৬৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০–৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিলেট জেলা পুলিশের মাসিক পারফরম্যান্স মূল্যায়নে জানুয়ারি ২০২৬ মাসের ‘শ্রেষ্ঠ এসআই’ (উপ-পরিদর্শক) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ-এর কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আমিরুল ইসলাম। কর্মক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে পুলিশ সুপার কাজী আক্তারুল আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি মাসে একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা, চোরাই ও অবৈধ মালামাল উদ্ধার, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার এবং দ্রুত সময়ে মামলা নিষ্পত্তিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার কারণে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে নির্বাচিত হন।
এদিকে সম্প্রতি ভোলাগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এসআই আমিরুল ইসলাম। দায়িত্ব নেওয়ার পরই সরকারি সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেয় প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোলাগঞ্জের শাহ আরিফ টিলা এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সংবাদ পেয়ে এসআই আমিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ১নং ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের পশ্চিমে আল আমিনের দোকানের সামনে সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় পাথরবোঝাই ট্রাক্টরগুলো আটকানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১৬টি ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। সরকারি সম্পদ চুরি ও খনিজ সম্পদ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নতুন ইনচার্জ দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যে যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভবিষ্যতেও পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন ও বিজিবির সমন্বয়ে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন ও পাচার রোধে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি জোরদার করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র রাতের আঁধারে পাথর উত্তোলন করে পাচার করছিল। নতুন করে যৌথ অভিযান শুরু হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একদিকে জেলার শ্রেষ্ঠ এসআই হিসেবে স্বীকৃতি, অন্যদিকে দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই কঠোর অভিযান—এসআই আমিরুল ইসলামের এমন পদক্ষেপ কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের বিরুদ্ধে শক্ত বার্তা দিয়েছে।
Leave a Reply