জৈন্তাপুর প্রতিনিধি
লালাখাল সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক বাংলাদেশি নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (১৯ বিজিবি) অধীন লালাখাল বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ১৩০১/২-এস সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সীমান্ত পিলার থেকে আনুমানিক ৭০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ইউনুস টিলা এলাকায় প্রতিপক্ষ বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (১৭২ বিএসএফ ব্যাটালিয়ন) এর হাংগেড়িয়া ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ভারতীয় খাসিয়া নাগরিক সুপারি চোরাকারবারিদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে বাংলাদেশি নাগরিক মোঃ বিল্লাল হোসেন (৩৬), পিতা-মৃত সিরাজুল হক, গ্রাম-হর্নি ময়নাবস্তী, থানা-জৈন্তাপুর উপজেলা, জেলা-সিলেট গুলিবিদ্ধ হন। আহত বিল্লাল বর্তমানে অজ্ঞাত স্থানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোকামপুঞ্জি এলাকা এখন সুপারি পাচারের অন্যতম করিডরে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শতাধিক ডিআই গাড়ির মাধ্যমে সীমান্তঘেঁষা অঞ্চল থেকে সুপারি পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ—প্রশাসনের নীরবতায় পাচারকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সীমান্তে নিয়মিত টহল ও নজরদারি জোরদার না হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
জৈন্তাপুর উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে গরু, বালু ও পাথর পাচারের পাশাপাশি এখন সুপারি পাচার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সীমান্তে গুলিবর্ষণের সাম্প্রতিক ঘটনা পাচারকারীদের ঝুঁকিপূর্ণ তৎপরতারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এবিসয়ে জৈন্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, চোরাচালান রোধে আমাদের অভিযা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ ও কঠোর নজরদারি ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।
Leave a Reply