স্টাফ রিপোর্ট
আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে সিলেটের রাজনীতি। বিশেষ করে মেয়র পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে কার ওপর আস্থা রাখবে দল, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মাঠপর্যায়ের জনমত জরিপে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এসেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক ও রাজপথের লড়াকু নেতা অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান।
সিলেটের সাধারণ নগরবাসী এবং বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি— দলের দুঃসময়ে রাজপথে থাকা, ত্যাগ ও বারবার নিজের প্রার্থিতা বিসর্জন দেওয়া এই নেতাকেই এবার নগরপিতা হিসেবে দেখতে চান তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক জরিপে দেখা গেছে, সামসুজ্জামান জামানের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ফেসবুকে পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে মন্তব্য করতে গিয়ে আব্দুল আলীম নামে এক নাগরিক লিখেছেন, দল থেকে যদি ইনসাফ করা হয়, তবে অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।
ইকবাল আহমদ নামের অন্য একজন লিখেছেন, জামান ভাইয়ের মতো নির্যাতিত ও দুর্দিনের রাজনৈতিক নেতা এই সিলেট শহরে আর একজনও নেই। তাকেই আমরা মেয়র হিসেবে চাই।
আব্দুল মুত্তালিব নামের এক ভোটার মন্তব্য করেছেন, আমার দেখা অভিজ্ঞতায় তিনি অন্য প্রার্থীদের তুলনায় অনেক বেশি বিচক্ষণ ও কর্তব্যপরায়ন।
সামসুজ্জামান জামানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পর্যালোচনায় দেখা যায়, তিনি বারবার ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে দলের সিদ্ধান্তকে স্থান দিয়েছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ের প্রবল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে তিনি আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দিয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়েও দলের মুরব্বি নেতা মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের সম্মানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। এমনকি সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু দল আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিলে তিনি দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে দিনরাত কাজ করেছেন।
সামসুজ্জামান জামানের এই দীর্ঘ ত্যাগের কথা স্মরণ করে সাংবাদিক ও সংগঠক নিজাম উদ্দিন টিপু এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, সিলেটের আধুনিক, নিরাপদ ও মানবিক নগরী গড়তে এমন এক আপসহীন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যার রক্তে মিশে আছে রাজপথের লড়াই। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন এক মৃত্যুঞ্জয়ী শক্তি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর ভূমিকা তাঁকে জীবন্ত কিংবদন্তিতে পরিণত করেছে। তিলোত্তমা সিলেট গড়তে তাঁর কোনো বিকল্প নেই।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাকে ‘জিয়া পরিবারের ভ্যানগার্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান— সবখানেই রাজপথের সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্দোলন করতে গিয়ে প্রায় দুইশতাধিক মামলা, একাধিকবার কারাবরণ ও রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এই নেতা।
সাধারণ নগরবাসীরা বলছেন, ২০১৩ সালে জামান সাহেব যদি আরিফুল হক চৌধুরীকে ছাড় না দিতেন, তবে সিলেটের রাজনৈতিক সমীকরণ ভিন্ন হতে পারতো। সেই অবদানের কথা সিলেটবাসী এখনো ভোলেনি। একজন সফল আইনজীবী হিসেবে সাধারণ মানুষের বিপদে-আপদে তিনি সবার আগে ছুটে আসেন।
তৃণমূলের একাধিক নেতা জানান, আমরা বিশ্বাস করি বিএনপির চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের পালস বুঝবেন। অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান একজন সৎ, দেশপ্রেমিক এবং দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকা নেতা। তাকে মনোনয়ন দিলে সিলেটে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত হবে।
আসন্ন নির্বাচনে ত্যাগী ও মজলুম নেতা হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের মূল্যায়নের দাবি এখন সিলেটে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ ও দলের নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের প্রত্যাশা— এবার অন্তত ত্যাগের পুরস্কার পাবেন সিলেটের রাজপথের এই অকুতোভয় সৈনিক।
Leave a Reply