সিলেট সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক ঢুকছে, ভোটের আগে আতঙ্ক

সিলেট সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক ঢুকছে, ভোটের আগে আতঙ্ক

একুশে সিলেট ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিলেটে বাড়ছে অস্ত্রের ঝনঝনানি। সিলেটের একাধিক সীমান্ত লাগোয়া চোরাই পথ ব্যবহার করে প্রবেশ করছে অস্ত্র। একই সাথে অবৈধ অস্ত্রের এই প্রবাহে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুধু আগ্নেয়াস্ত্রই নয়, সিলেটে উদ্ধার হচ্ছে শক্তিশালী বিস্ফোরক দ্রব্য ও ডেটোনেটর। পাওয়া যাচ্ছে সাউন্ড গ্রেনেডও। এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যতগুলো অভিযান চালিয়েছে সব অভিযানেই অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হলেও মূল হোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সবচেয়ে বেশি অস্ত্র সিলেটের বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে দেশে আনছে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসায়ীরা। এ পর্যন্ত সিলেটে যতগুলো আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে সবকটি চালান এসেছে ভারত থেকে চোরকারবারিদের মাধ্যমে।

সূত্র জানায়, সিলেটের সীমান্তবর্তী জেলায় বিভিন্ন সময়ে যেসব ব্যক্তি অবৈধভাবে লোকজন পারাপারসহ চোরাচালানি করে তাদের একটি তালিকা তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের ভাষায় এদের লাইনম্যান বলা হয়। এই তালিকায় সিলেটের সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী লাইনম্যানদের নাম-ঠিকানা রয়েছে, যারা ইতোমধ্যে অপরাধে জড়িয়ে জেল খেটেছেন। তাদের অবস্থান শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখার জন্য পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব তালিকা জেলা পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তালিকা পাঠানোর পাশাপাশি দেয়া হয়েছে গ্রেফতারের নির্দেশনাও।

জেলা পুলিশের এক এক কর্মকর্তা (অপরাধ) জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে থানা পুলিশের পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের পুলিশদেরকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে রাত ও দিনের বেলা চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্ক্রম পরিচালনা করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সাথে সীমান্তে অপরাধের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে নজরদারি করা হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে পুলিশের চেকপোস্টে ১০টি নতুন এয়ারগান জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় নম্বরপ্লেটহীন একটি মোটরসাইকেলও পায় পুলিশ। ভারত থেকে আনা এসব অস্ত্রের গন্তব্য এবং আমদানির কারণ খুঁজে পায়নি পুলিশ। নির্বাচন উপলক্ষে এসব অস্ত্র আনা হয়েছিল কিনা সেটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

তামাবিল মহাসড়কে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের বিষয়ে জৈন্তাপুর থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, ১৯ জানুয়ারি তল্লাশি করে ১০টি অস্ত্র উদ্ধার করা হলেও কারবারিরা পালিয়ে গেছে। অস্ত্রগুলো সিলেটের কানাইহাট সীমান্ত দিয়ে আনা হয়েছে ভারত থেকে। অস্ত্র চোরা কারবারিদের চিহ্নিত করতে, গন্তব্য কোথায় ছিল এবং কী উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে তা তদন্ত করছি।

এছাড়া সিলেটে রেলের টয়লেটের ভেতর থেকে ভারতীয় বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে র‌্যাব। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দক্ষিণ সুরমার জৈনপুর শিববাড়ি এলাকায় রেলওয়ের পুরাতন টয়লেটের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ৬টি পাওয়ার জেল ও ৫টি নন ইলেকট্রিক ডেটোনেটর। পরে জিডিমূলে বিস্ফোরকগুলো দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব।

এছাড়া ২০২৪ সালে ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের (২৭ জানুয়ারি) সিলেট বিভাগ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দায়িত্বপূর্ণ এলাকা থেকে সর্বমোট ৩৮টি দেশী ও বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন-০৫টি, ৯৬২৫ গ্রাম বিস্ফোরক, ৫৪টি ডেটোনেটর, ০১টি সাউন্ড গ্রেনেড, ০৫টি পেট্রোল বোমা, ককটেল ৬টি এবং বিপুল পরিমাণ এয়ারগানের গুলিসহ ৮৫টি এয়ারগান উদ্ধার করে র‌্যাব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff