হুমায়ুন কবির, গোয়াইনঘাট
লোকে লোকারন্য জাফলং। শুধু পিকনিক স্পট নয়। আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পর্যটকবাহী যানবাহনের সারী। তীব্র যানযট।
নিরুওয়ায় হয়ে পায়ে হেটেই জাফলং জিরো পয়েন্ট অভিমুখে পর্যটকদের পদচারণা। ভ্রমন প্রেয়সীদের পদচারণা মুখরিত জাফলংয়ে বেড়াতে আসা পর্যটক দর্শনার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রশাসন,পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্কাউট, রোভার স্কাউটসসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও। গত দুদিন ধরে এ চিত্র সিলেটের প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানাছুটিকে কেন্দ্র করেই পর্যটক দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে উঠেছে সিলেটের জাফলংসহ আশপাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।
কাক ডাকা ভোর থেকে হাজারো পর্যটকের আগমনে কর্মচাঞ্চলত্যা দেখা গেছে পর্যটক সংশ্লিষ্টদের মাঝে। দিনব্যাপি পর্যটকের সরব উপস্থিতিতে খুশি এখানকার পর্যটক রিলেটেড ব্যবসায়ীরাও।
ভারতের মেঘালয়ের বিস্তৃত সবুজ টিলা, পাহাড়, নূড়ী পাথর আর,পিয়াইনের বহমান স্বচ্ছ জলরাশি আর পাহাড় বেয়ে পড়া ঝর্ণার শা শা শব্দের পানি পড়ার দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদের দিন থেকেই ভ্রমণে আসেন পর্যটকরা। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে জাফলংয়ের বেশিরভাগ হোটেল-মোটেলের সিংহভাগ রুমই অনলাইনে বুকিং হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার ঈদের দ্বিতীয় দিন প্রায় লাখো পর্যটক সিলেটের গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভ্রমণে এসেছেন। এর মধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র প্রকৃতি কন্যা জাফলংয়ে সবচেয়ে বেশি পর্যটক ঘুরতে এসেছেন। এছাড়াও প্রকৃতির অপ্সরাখ্যাত বিছনাকান্দি ও জলারবন রাতারগুলেও ছিলো পর্যটকদের ভিড়।
সকালে সরেজমিনে জাফলংয়ে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই দলবেঁধে পর্যটকরা ঘুরতে বের হয়েছেন। মেঘালয়ের পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের সমাহার দেখে যেন তাঁরা মুগ্ধ হন। পরিবার পরিজন ও বন্ধু বান্ধব নিয়ে ঘুরছেন আর ছবি তুলছেন। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে খাসিয়া পল্লী আর চা-বাগানের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন।
এছাড়াও ঠাঁই ছিলো না এখানকার হোটেল-মোটেলগুলোতে। রেস্টুরেন্টগুলোতেও তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।
দীর্ঘদিন পর বেচাকেনা ভালো হওয়ায় খুশিতে রয়েছেন এখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
চট্রগ্রাম হালিশ্বর থেকে স্বপরিবারে বেড়াতে আসা জয়নাল আবেদীন জানান, ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার চারপাশের পরিবেশ খুব চমৎকার। দীর্ঘদিন পর বেড়াতে আসলাম। পাহাড়, পানি আর ঝুলন্ত ব্রিজ দেখলাম। খুব ভালো লাগলো।
সাপাহার নওগাঁ থেকে আসা জাকির হোসেন জানান,তারা ৩টি যাত্রীবাহি বাসে করে ১৫০ জন এসেছেন।
এখানকার প্রকৃতি,পরিবেশ সবই মনোমুগ্ধকর বলে পর্যটকরা সব সময় জাফলং আসে বলে মন্তব্য তার। তিনি জাফলংয়ে দ্রুত সরকারি অর্থায়নে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের কাছে দাবি জানান।
জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হোসেন মিয়া বলেন, ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এতে আমাদের বিনিয়োগকারী ব্যবসায়ীরাও খুশি।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এবারের ঈদেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় থানা পুলিশ, ট্যুরিষ্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার, রোভারস্কাউটের সদস্যরা ও স্থানীয়রা ডুবুরীরা কাজ করছে।
Leave a Reply