কুলাউড়ায় ‘রোকনটিলা ইকোপার্ক ও আনোয়ারাবাদ ফ্রুটস গার্ডেন’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন

কুলাউড়ায় ‘রোকনটিলা ইকোপার্ক ও আনোয়ারাবাদ ফ্রুটস গার্ডেন’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন

কুলাউড়া প্রতিনিধি

কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নে রাঙ্গিছড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ছয়ফুল ইসলাম ওরফে রোকন মিয়ার দখলে থাকা ২০ একর সরকারি টিলাভূমি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে তোলা ‘রোকনটিলা ইকোপার্ক ও আনোয়ারাবাদ ফ্রুটস গার্ডেন’ গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। উদ্ধারকৃত ওই জমির মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।

(১৩ ডিসেম্বর) শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে জমিতে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে সরকারি মালিকানার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হয়।

শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে একটি দল সেখানে অভিযান শুরু করে। অভিযানে এসময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ জহুরুল হোসেন, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান ও পিয়াস চন্দ্র দাস, থানার এসআই আমির হোসেনের নেতৃত্বে কুলাউড়া থানার পুলিশের একটি দল।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাঙ্গিছড়া টি.ই মৌাজার ৮৫৪ এবং ৮৬৮ দাগে স্থানীয় বাসিন্দা ছয়ফুল ইসলাম ওরফে রোকন মিয়া তথ্য গোপন করে ১৯৯২-৯৩ সালে কর্মধা ইউনিয়নের রাঙ্গিছড়া টি এস্টেট (চা-বাগান) মৌজায় ২০ একর সরকারি টিলাভূমি নিজের নামে নামজারি করে ফেলেন। ১০-১২ বছর আগে তিনি ওই স্থানে ইকোপার্ক ও ফলবাগান স্থাপন করেন। কয়েক বছর আগে প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনুসন্ধান চালিয়ে ওই জমি সরকারি বলে চিহ্নিত করেন। পরে জমির নামজারি বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে জমির ভূমি উন্নয়ন কর গ্রহণও বন্ধ করে দেওয়া হয়।

সহকারী কমিশনার(ভূমি) শাহ জহুরুল হোসেন জানান, অভিযানের সময় পাকা তোরণ, আধা পাকা কয়েকটি ঘর, বিভিন্ন রাইড ও পাকা বেঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়। জমিটির মালিক সরকারের পক্ষে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক উল্লেখ করে সেখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। অবৈধ দখলে থাকা সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বুলবুল আহমেদ জানান, জেলাজুড়ে সরকারি খাস জমি উদ্ধারে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কুলাউড়ার রাঙ্গিছড়া টি.ই মৌাজার ৮৫৪ এবং ৮৬৮ দাগে বিপুল পরিমাণ খাস জমির সন্ধান মেলে। দীর্ঘদিন ধরে ছয়ফুল ইসলাম ওরফে রোকন মিয়া নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি ২০ একরের ওই খাস জমি দখল করে অবৈধভাবে ইকোপার্ক নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছিলেন। তিনি আরও জানান, অভিযানকালে অবৈধ সব স্থাপনা অপসারণ করে অবৈধ দখলে থাকা ২০ একর খাস জমি উদ্ধার করে সাইনবোর্ড টানানো হয়। যেখানেই খাস জমি দখলে রয়েছে সেগুলো পর্যায়ক্রমে উদ্ধারে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.




© All rights reserved ©ekusheysylhet.com
Design BY DHAKA-HOST-BD
weeefff